সোফিয়া কোনো ডেস্কে বসে আন্দাজে বানানো সফটওয়্যার নয়। এটা এসেছে একজন মানুষের ২৮ বছরের বাস্তব অপারেটিং অভিজ্ঞতা থেকে, যিনি নিজে এই সেক্টরের সেলস অপারেশন চালিয়েছেন।
“আমার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে এই ইন্ডাস্ট্রিতেই, আর আমি একে বেড়ে উঠতে দেখেছি। কনস্ট্রাকশনের মান বেড়েছে। ফাইন্যান্সিং ভালো হয়েছে। প্রোডাক্ট ভালো হয়েছে। একটা জায়গায় গ্যাপ রয়েই গিয়েছিল আর তা হল — একটা পরিপূর্ণ সেলস অপারেশন, যেখানে সেলস প্রফেশনাল থেকে শুরু করে কোম্পানির স্টেকহোল্ডার পর্যন্ত একটা ফ্লো বা অপটিমাম আউটপুট পেতে পারে।
রিয়েল এস্টেট সেলস চলেই স্মৃতি আর সম্পর্কের উপর ভর করে। মাসিক টার্গেট একটা সংখ্যা, আর এই সংখ্যাটিকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে প্রয়োজন দক্ষ কর্মীর, যেখানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কথাটা আমি সমালোচনা হিসেবে বলছি না। এই ইন্ডাস্ট্রি এভাবেই গড়ে উঠেছে, আর বহু বছর ধরে এই গ্যাপ নিয়ে সেভাবে কেউ কাজও করেনি। ক্রেতারা এখন অনেক সচেতন, কোনো ডকুমেন্ট সাইন করার আগে, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অনেক খোঁজখবর করেন, কোন কোম্পানি কী করছে তা যাচাই করেন। যে কোম্পানির কাছে নিজের সেলস অপারেশনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলোই অজানা, সেই কোম্পানির সেলস আশানুরূপ হবে না এটাই স্বাভাবিক।
এই ইন্ডাস্ট্রিতে আগেও সফটওয়্যার এসেছে, কিন্তু ই-আর-পি আর সি-আর-এম-এর মধ্যে পার্থক্যটা বেশ বড় এবং জটিল। যেখানে ই-আর-পি কিছু ম্যানুয়াল ইনপুট, কিছু নাম্বার নিয়ে কাজ করে সেখানে SaaS একটা পরিপূর্ণ সিস্টেম।
আমি সোফিয়া দেখেছি। এটি তৈরি করেছেন এমন একজন যিনি নিজে এই অপারেশনগুলো চালিয়েছেন এবং জানেন মূল সমস্যাগুলো কোথায়। এখন সোফিয়ার মাধ্যমে হয়তো এই ইন্ডাস্ট্রির একটা ঘাটতি পূরণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কাজী মনজুর আহমেদ আমার সঙ্গে bti-তে কাজ করেছেন — আমি তখন ম্যানেজিং ডিরেক্টর, আর তিনি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর। তিনি এমন ধরনের অপারেটর, যিনি রিপোর্টে কোন কথাটা লিখলে সুবিধা হয় তার চেয়ে আসলে সত্যিটা কী সেটা জানতে চাইতেন, আর সেটা বের করতে অস্বস্তিকর প্রশ্নটাও করতেন। তিনি যা তৈরি করেছেন, তাতে সেই স্বভাবের ছাপ আছে।
যে কোম্পানি এটা নেওয়ার কথা ভাবছে, তাদের একটা কথা বলব। এ ধরনের সিস্টেম আপনাকে আপনার নিজের অপারেশনের এমন কিছু দেখাবে, যা দেখতে হয়তো ভালো লাগবে না। আর যা দেখাচ্ছে তার উপর কাজ করতে প্রস্তুত থাকলে তবেই এটার মূল্য আছে। মাসিক রিপোর্ট বানানোটা শুধু সহজ করতে চাইলে তার চেয়ে সস্তা উপায় আছে। কিন্তু সেলস ফ্লোরে আসলে কী ঘটছে সেটা যদি জানতে চান, তাহলে এটার পেছনে সময় দেওয়া যায়।
সোফিয়া — এই SaaS-টির জন্য, আর মনজুরের জন্য — দুজনেরই সফল পথচলা কামনা করি।”
— ইঞ্জিনিয়ার এফ. আর. খান
কাজী মনজুর আহমেদ গত ২৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ও বিদেশে আইটি, সাপ্লাই চেইন, রিয়েল এস্টেট আর কমার্শিয়াল সেলস অপারেশনে সরাসরি কাজ করছেন। Executive Director, Chief Business Officer এবং CEO-এর মতো সিনিয়র লিডারশিপ পজিশনে থেকে তিনি দেশের কয়েকটা বড় রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের সেলস, মার্কেটিং আর কাস্টমার অপারেশনের সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তাই সোফিয়া যে সমস্যাগুলো সমাধান করতে চায়, সেগুলো তাঁর কাছে কোনো তাত্ত্বিক সমস্যা নয়। এগুলো তিনি নিজে বছরের পর বছর ধরে দেখেছেন।
একজন এজেন্ট চলে গেলেন — তাঁর সঙ্গে কাস্টমারের পুরো ইতিহাসটাও যেন চলে গেল। একটা লিড একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে গেল, কিন্তু আগের আলোচনা, ফলো-আপ, কাস্টমারের আগ্রহ, সাইট ভিজিট — সবকিছুর একটা পরিষ্কার ধারাবাহিকতা আর থাকল না। একজন সেলসপারসন বললেন সাইট ভিজিট হয়েছে, কিন্তু সত্যিই হয়েছে কি না তা স্বাধীনভাবে যাচাই করার কোনো নির্ভরযোগ্য উপায় ছিল না। আর মাস শেষে টার্গেট মিস হলো।
তারপর শুরু হতো একই আলোচনা — আরও সুপারভিশন দরকার, আরও প্রেশার দিতে হবে, টার্গেট আরও কড়া করতে হবে, সেলস টিমকে আরও জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে। কিন্তু বছরের পর বছর একই সমস্যার মুখোমুখি হয়ে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়েছে —
সেলসের সব সমস্যা মানুষের সমস্যা নয়।
অনেক সময় মানুষ ঠিকভাবেই কাজ করছিলেন। সমস্যাটা হলো, পুরো সেলস অপারেশনটাই এমনভাবে তৈরি যে মানুষের ভালো কাজটাও ঠিকমতো ধরা পড়ে না, আর কোথায় কাজ হচ্ছে না সেটাও সময়মতো চোখে পড়ে না।
একজন এজেন্ট চলে গেলে তাঁর সব রেকর্ডও তাঁর সঙ্গে হারিয়ে যায়। একটা লিডের যাত্রা মাঝপথে অস্পষ্ট হয়ে যায়। একটা সাইট ভিজিটের সত্যতা শুধু একজনের কথার ওপর নির্ভর করে। আর একজন সেলসপারসনের পারফরম্যান্স রেটিং অনেক সময় রেকর্ড হওয়া অ্যাক্টিভিটির বদলে ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।
সেখান থেকেই সোফিয়ার ধারণা। মানুষকে আরও বেশি সুপারভাইজ করার জন্য না — পুরো সেলস পাইপলাইনটা রেকর্ডে অটুট রাখার জন্য।
একজন সেলসপারসন বদলে গেলেও লিডের ইতিহাস থেকে যায়। লিড রি-অ্যাসাইন হলেও তার পুরো যাত্রা হারায় না। সাইট ভিজিট হলে সেটা GPS, ছবি আর ক্লায়েন্টের নিজের WhatsApp বা SMS কনফার্মেশন দিয়ে যাচাই করা যায়। আর পারফরম্যান্স রেটিং শুধু ম্যানেজারের ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না — তার পেছনে থাকে রেকর্ড হওয়া অ্যাক্টিভিটি থেকে তৈরি করা একটা মাপযোগ্য পারফরম্যান্স স্কোর।
সোফিয়া কোনো জেনেরিক সেলস টুল নিয়ে পরে সেটাকে রিয়েল এস্টেটের জন্য একটু বদলে বানানো হয়নি। এটা তৈরি হয়েছে রিয়েল এস্টেট সেলস অপারেশনের ভেতরের এই সমস্যাগুলো থেকেই। যে মানুষটা বছরের পর বছর এই কাজটা করেছেন, সমস্যাগুলো নিজে দেখেছেন, আর বারবার একই জায়গায় আটকে গেছেন — সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সোফিয়ার শুরু।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা হওয়া উচিত না — “আমাদের সেলসপিপল কতটা ভালো?” প্রশ্নটা হওয়া উচিত — “আমাদের সিস্টেম কি তাঁদের প্রতিটা কাজ সত্যিই রেকর্ডে রাখছে?”
সোফিয়া শুধু একটি CRM নয়, এটি একটি সেলস ইঞ্জিন যা আপনার সেলস টিমকে পারফর্ম করতে সহায়তা করে। নয়টা আলাদা রোলের জন্য নয়টা আলাদা ড্যাশবোর্ড, GPS আর ছবি দিয়ে ভেরিফাই হওয়া সাইট ভিজিট (ক্লায়েন্টের নিজের WhatsApp বা SMS কনফার্মেশনসহ), ৪০+ বিল্ট-ইন রিপোর্ট, আর প্রতিটা মানুষের জন্য একটা সত্যিকারের হিসাব করা পারফরম্যান্স স্কোর — এগুলো শুধু কথার কথা নয় — প্রতিটাই আজ সিস্টেমে চালু।